একটি প্রজাপতির আত্মকথা
আমি একজন রঙিন প্রজাপতি । প্রকৃতি আমাকে অনুপম ভাবে সৃষ্টি করেছে । একটি কাঁটাওয়ালা শুঁয়োপোকার খোলস ছেড়ে আমি বেরিয়ে আসি , আমার অপর নাম তিতলি । আমার আছে সুন্দর দুটি ডানা ও শুঁড় , আরেকটি তন্বী শরীর ।
রঙে রঙে মাখামাখি আমার সারা শরীর । তুমি যদি আমাকে স্পর্শ করো তাহলে তোমার আঙ্গুলেও লাগবে রঙের ছোঁয়া । কি অদ্ভুত না ?
আমি উড়ে বেড়াই ফুল থেকে ফুলে, গাছ থেকে গাছে , বন থেকে বনান্তরে । ফুলের পরাগ রেনু পায়ে মেখে আমি গিয়ে বসি অন্য ফুলে, মধু খেতে , এর ফলেই পরাগ মিলন সম্ভব হয় । তার থেকে আসে ফল, ফল থেকে নতুন বীজ ও তারপর নতুন বৃক্ষ । এভাবেই সৃষ্টি বেঁচে থাকে ।
ঈশ্বর এই মূল্যবান দায়িত্বটি আমার উপর অর্পণ করেছেন ।পরম কৃপাময় তিনি । আমি মধু লোভী , তাই পরাগ মিলন সম্ভব হয়, ফুলের মধু খেয়ে দিন কাটে আমার । মানুষের জালে আমি ধরা পড়ি খুব কম । প্রকৃতিই আমার বাসস্থান ।
নিজের রূপে মুগ্ধ আমি , " কস্তূরী সেই মৃগের মতো নিজের গন্ধে নিজেই মরি ", রঙিন ফুলের সাথে মিশে আমি একাত্ম হয়ে যাই । আমার নেই কোনও ক্ষোভ , রাগ , বিদ্বেষ , ঈর্ষা ।
পৃথিবীর প্রতিটি জীবকেই আমি ভালোবাসি । আমার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে আমাকে নিয়ে চিত্ররচনা করেন অনেকেই । মানুষের নেতিবাচক মন আমাকে ব্যাথিত করে । তাই আমি প্রকৃতিতেই মিশে থাকি ।
আমাদের আরেকটি শ্রেনী আছে । তাকে তোমরা মথ বা শয়তান প্রজাপতি বলো। তাদের মানুষ অশুভ বলে গন্য করে । তাদের রঙ বাদামী ও রাক্ষুসে ক্ষুধায় জ্বলজ্বলে দুটি চোখ ।
আমি যেহেতু মিলন ঘটাই , তাই গৃহস্থের বাড়িতে আমার আনাগোনা মঙ্গলময় বলে বিবেচিত হয় । আমি নাকি বৈবাহিক বন্ধনের কারক ।
আমার অপর শ্রেনী টিকে মানুষ ভয় করে , তাদের স্পর্শ কে ঘৃণা করে । তাদের সঠিক কাজ কি তা আমারও জানা নেই । কিন্তু আমার অন্তর আমার বাহ্যিক শরীরের মতই রঙিন ,পৃথিবীতে রঙ ছড়িয়ে দেওয়াই আমার কাজ ।
আমার সৌন্দর্য ও দায়িত্ববোধ প্রবল । আমি বিধাতার এক অতুলনীয় সৃষ্টি !!!

Comments
Post a Comment